অভিপ্রায়

ইচ্ছাশক্তি পূরনে স্বপ্নযাত্রা

আইনজীবী হওয়াই ‘প্রণয়ের’ অভিপ্রায়

ক্লান্ত বিকেল, সময় ঠিক পাঁচটা। আমার অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। ভাবছেন কিসের অপেক্ষা? অপেক্ষা একজন ভবিষ্যৎ আইনজীবীর সাথে কথা বলার। ভবিষ্যৎ আইনজীবী শুনে অবাক হচ্ছেন? আমিও হয়েছিলাম প্রবল মনোবল আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ় প্রত্যয় দেখে। বলছি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রন্ছ-রুহিতপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক পরেশ দাসের বড় ছেলে প্রণয় দাসের এর কথা। প্রণয়ের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। তখনই তার কথা শুনে প্রণয়কে দেখার আগ্রহটা খুব বেড়ে গেল। তাই প্রবল উত্তেজনা নিয়ে চলে গেলাম প্রণয়ের বাসায়। প্রণয় রনছ রুহিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির ছাত্র। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নীলসাদা রঙের স্কুল ড্রেস, কাঁধে ব্যাগ আর ক্লান্ত ক্ষুধার্ত শরীর নিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ঢুকলো প্রণয়। ক্লান্ত শরীর কিন্তু তার চোখে-মুখে যেন দৃঢ় প্রত্যয়ের আভা জ্বলজ্বল করছে। কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেই, বলল, ভগবান ভালো রেখেছেন। পড়াশুনার কথা জিজ্ঞেস করতেই খুব হাসিমুখে বলল, ভালো, সাথে বলল, স্বপ্নযাত্রার জন্যই আমি পড়াশুনা

য় নতুন মাত্রা পেয়েছি। স্বপ্নের পথে হাঁটার নতুন পথ পেয়েছি। এখন প্রণয় পড়াশুনায় আরো মনোযোগী হয়েছে।

কেমন ছিলো পেছনের দিনগুলি? প্রণয় বলল, আমার বাবা কৃষিকাজ করেন। মা গৃহিণী আমরা দুই ভাই এক বোন। একমাত্র বাবার আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে। অনেক সময় দেখেছি মা আমাদেরকে খাইয়ে হাঁড়ি মুছে আধপেট খেত। এমন অবস্থায় পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া যেন দুঃস্বপ্নের মতো। ভেবেছিলাম পড়াশুনা করে আইনজীবী হবো কিন্তু যেখানে ঠিকমতো খেতেই পাই না সেখানে এতদূর পড়াশুনা করে কীভাবে আইনজীবী হবো? সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কোনোভাবে এসএসসি পাশ করে কোনো একটা কাজে লেগে যাবো, যাতে ছোটভাই বোনের লেখাপড়ার কোনো সমস্যা না থাকে। আমার স্বপ্নটা না হয় আমার ছোট ভাইবোন পূরণ করবে।

প্রণয় এই কথা বলতে বলতে চোখের পানি ফেলে দিলো। আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম ওকে কি বলে কান্না থামাবো। একটু পরেই প্রণয় বলে উঠলো, জানেন, দাদা, ভগবান আমার কথা শুনেছে। প্রতিদিন পূজা করে ভগবানের কাছে বলতাম- ভগবান যেভাবেই হউক আমি যেন পড়াশুনা করে আইনজীবী হতে পারি। ভগবান তাই করেছেন, স্বপ্নযাত্রাকে আমার পাশে এনে দাঁড় করিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে আমার স্বপ্ন সত্যি হতে আর কোনো বাধাই থাকবে না। আমি আইনজীবী হবোই আর আইনজীবী হতে পারলে আমি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবো যেমনটি স্বপ্নযাত্রা আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার পুরো মনোযোগ এখন পড়াশুনায় দিতে পারি। দাদা, আমি সত্যিই একদিন আইনজীবী হবোই, আপনি দেখবেন। প্রণয়ের চোখে তার স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছিল আমি অবাক হয়ে ওকে দেখছিলাম। ভাবছিলাম, স্বপ্নযাত্রা সমাজের এই প্রণয়ের মতো এই স্বপ্নজয়ী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন এক আলাদা উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক শিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।

For a concise external overview of payout characteristics, licensed operators and common payment options for Australian players, see https://travelspaceoman.com/casino-with-highest-payout-australia/. The linked page summarizes how different sites approach payouts and withdrawal methods without providing legal or financial advice. It may be useful for readers who want a focused comparison of payout tendencies and practical withdrawal considerations. Use the page as an informational starting point when researching casinos that serve Australian customers.

Related Posts

স্বপ্নযাত্রা – একটি স্বপ্নের শুরু

“স্বপ্নযাত্রা” – স্বপ্ন পূরণের গল্প

২০১৫ সাল। উন্নয়নকর্মী মহুয়া আপা একদিন ফোন করে বললেন, একটা ছেলে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছে;Read More

পিতার ভবিষ্যৎ ভরসাস্থল, শিক্ষকের আদর্শ ছাত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত রিপন হোসাইন

রিপন হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে গজারিয়া উপজেলার উত্তরশাহাপুর গ্রামে বাস করে।Read More

Comments are Closed