২য় বছরে

দ্বিতীয় বছরে 'স্বপ্নযাত্রা'

একজন ‘চেঞ্জমেকার’ আরিফ সিকদার ও তার ‘স্বপ্নযাত্রা’ নিয়ে পথ চলা

‘চেঞ্জমেকার’ শব্দটার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ ততটা পরিচিত নয়। বিশ্বে এই শব্দটা প্রথম প্রচার ও জনপ্রিয় করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। খুব সাধারন ভাষায় বলতে গেলে ‘A Changemaker is somebody who is taking creative action to solve a social problem’

অন্যকথায় বলতে গেলে একটু একাডেমিক হয়ে যায়। Changemakers identify problems and see it as an opportunity to build a solution. They apply the critical skills of empathy, teamwork and leadership to make positive impact.

বাংলাদেশে কি কেউ আছেন এমন চেঞ্জমেকার ? ছিলেন ব্র্যাকের স্যার ফজলে হোসেন আবেদ। তিনি নাইটহুড বা ‘স্যার’ উপাধিপ্রাপ্ত, খামোখা স্যার না। আরো আছেন অনেকে হয়তো। কিন্তু আমি একজনকে জানি, খুব কাছ থেকে তাকে দেখেছি। আমি তাকে বলি ‘ভিশনারী চেঞ্জমেকার’ বা ‘ম্যাজিক্যাল চেঞ্জমেকার’

তিনি একজন উন্নয়ন কর্মী, সামাজিক ব্যাবসার সফল উদ্যোক্তা, ভবিষ্যৎমুখী ও বাস্তববাদী নৈতিক স্বপ্নসারথী। সবাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গা থেকে পাশ করে সেই ৯০ এর দশকের শুরুতে কর্পোরেট বা সরকারী চাকুরীর জৌলুস নেয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতো তখন তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ নিয়ে কাজ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তার সেই স্বেচ্ছা উদ্যোগ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। আমার দেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে ডাইনামিক ও প্রযুক্তিপ্রেমী প্রধান নির্বাহী তিনি। ২০০৭/০৮ সালের দিকে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সবেমাত্র ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনে আইটিকে নিয়ে আসা শুরু করেছে তখন তার প্রতিষ্ঠানে সবার হাতে ল্যাপটপ, নেটওয়ার্ক ও অটোমেশানে প্রতিটি কাজ।

অনেক তথাকথিত, স্বনামধন্য ব্যক্তি থাকতে পারে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায়, তবে সত্যিকারের কর্মপাগল, প্রচারবিমুখ ও মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কারিগর, একজন সত্যিকারের সমাজসেবক আমাদের প্রিয় আরিফ ভাই, অফিসিয়ালি যিনি আরিফ সিকদার ( Arif Sikder )। গজারিয়ার মানুষ তাকে নিয়ে গর্ব করতেই পারেন। সবচেয়ে কঠিন বা জটিল সামাজিক সমস্যাগুলোকে তিনি গ্রহন করেন সফল সমাধান প্রস্তুতির জন্য। চেঞ্জমেকারের যে ৮ টি গুণ থাকার কথা একজন মানুষের, তার সবকটিই আছে তার মধ্যে। তিনি প্রতিদিনের ব্যর্থতা থেকে শিখে সফলতার দেখা পান। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ও উদ্যগের সঙ্গে তিনি জড়িত। তবে আমার দেখা তার সবচেয়ে বড় কাজ এই ‘স্বপ্নযাত্রা’।

আমারও সুযোগ হয়েছিল এই ‘স্বপ্নযাত্রা’র সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার। স্বপ্নযাত্রা দরিদ্র পরিবারের একজন ছেলে/মেয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। গত বছর থেকে শুরু হয়ে এর ব্যাপ্তি প্রতিবছর বাড়ছে। কোন রকম সামাজিক সম্মান প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক লাভ, প্রচার প্রচারনা কিছুই বিনিময়ে প্রত্যাশা নেই এই ‘স্বপ্নযাত্রা’ প্রকল্পের। একজন শিক্ষিত মানুষ পারে তার পরিবারের অবস্থা পরিবর্তন করতে। এটি একটি স্বপ্ন-উদ্যোগ যা পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের সুষ্ঠু ও প্রকৃত শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ঐ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন করতে সচেষ্ট। একটি সুশিক্ষায় শিক্ষিত সন্তান তার পরিবারের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ। কারো অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরাসরি তাকে আর্থিক সহযোগীতা দিলে সেটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা কম কিন্তু ঐ পরিবারের কোন সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে তা শুধু ঐ পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নেই শুধু ভূমিকা রাখবে না, তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে ও দেশের জন্যও তা হবে এক একটি সম্পদ। এই শুভ চিন্তা থেকেই শুরু হয়েছিল স্বপ্নদ্রষ্ঠা আরিফ ভাইয়ের উদ্যোগ ও আমাদের সবার সম্মিলিত ‘স্বপ্নযাত্রা’।

লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার আরো কিছু ব্যক্তিগত, সামাজিক উদ্যোগ হয়তো আছে, তবে ‘স্বপ্নযাত্রা’ আলাদা। আমরা শুরু থকে শেষ, শেষ দেখে ছাড়ার পণ নিয়ে পথে নেমেছি। এই যাত্রা কখনো থেমে যাওয়ার জন্য নয়। লেখাপড়া সম্পর্কিত সকল দায়িত্ব আমরা নেই।

আমার জীবনে যে কয়জন মানুষের প্রভাব আছে আমি সবিনয়ে তাদের সবাইকে স্মরন করি সুযোগ পেলে। কৃতজ্ঞতা স্বীকারের এই সুযোগটুকু আমি নিজে নিয়ে নিজেকে একটু হালকা করতে চাই। আরিফ ভাইয়ের অনেক কথার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে দ্বিমত করলেও আমার জীবনে তার অনেক দর্শন, মতামত, জীবনাচারের এক বড় প্রভাব আছে। হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষকে দিয়ে সঠিকভাবে কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য অনেক সময় বাস্তবসম্মত কিছু কৌশল নিতে হয়। অনেকে সেই কৌশলের কিছু হয়তো অপছন্দ করতে পারেন তবে দিনশেষে প্রিয় মানুষের তালিকায় ‘স্বপ্নযাত্রার’ প্রতিষ্ঠাতা আমাদের প্রিয় আরিফ ভাই শ্রদ্ধার আসনটি ধরে রাখতে পারেন। একজন মানুষের জন্য লক্ষ মানুষের মুখে হাসি দেখা ও হাজার মানুষের ভালবাসা পাওয়ার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে ?


স্বপ্নযাত্রার দ্বিতীয় বর্ষ যাত্রা সফল হোক।

S M Saifur Rahman
January 31, 2020

Related Posts

“স্বপ্নযাত্রা” – স্বপ্ন পূরণের গল্প

২০১৫ সাল। উন্নয়নকর্মী মহুয়া আপা একদিন ফোন করে বললেন, একটা ছেলে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছে;Read More

আইনজীবী হওয়াই ‘প্রণয়ের’ অভিপ্রায়

ক্লান্ত বিকেল, সময় ঠিক পাঁচটা। আমার অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। ভাবছেন কিসের অপেক্ষা?Read More

পিতার ভবিষ্যৎ ভরসাস্থল, শিক্ষকের আদর্শ ছাত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত রিপন হোসাইন

রিপন হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে গজারিয়া উপজেলার উত্তরশাহাপুর গ্রামে বাস করে।Read More

Comments are Closed