স্বপ্নযাত্রার স্বপ্নসঙ্গী

আলোর পথের উদ্যমী পথিক নাইমা

জান্নাতুল ফেরদৌস নাইমা জামিলা আইনুল আনন্দ বিদ্যালয় ও কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দশম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। সে মোহাম্মদপুর এলাকার জহুরী মহল্লার বাবর রোডে বসবাস করে। তার বাবা নাজমুল আহসান খান স্বল্পবেতনে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার এই স্বল্পবেতন দিয়েই সাত সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের সকল খরচ চলে। এত বড় সংসার চালাতে গিয়ে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর কথা, সেখানে বাবা নাজমুল আহসান তার শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনার খরচ বহন করে চলেছেন। ছোটবেলা থেকে মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মানুষের মতো মানুষ হাওয়র দৃঢ় সংকল্প, নাইমার বাবা ও মাকে অনুপ্রানীত করেছে তাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য। স্কুলের শিক্ষকরাও তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে পড়াশোনা করার জন্য। রাজধানীতে যেখানে উচ্চবিত্ত পরিবারও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যায়, সেখানে বাবা নাজমুল হাসানের মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার প্রচেষ্টা অনেকটা অসাধ্যকে সাধন করার মতনই। বিগত বছরগুলোতে নাইমার ভালো ফলাফল, শিক্ষকদের উৎসাহ, বাবা-মায়ের ঘামঝরা শ্রম ও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। সে একদিন মানুষের মতো মানুষ হবে এবং পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনেও সফলতা অর্জন করবে।

কিন্তু অসহায় বাবার পক্ষে এখন আর পড়াশোনা করানোর যাবতীয় খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে সংসারের সকল খরচ বহন করতে গিয়ে মেয়ের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ দিতে পারছে না। ঠিক যখনি নাইমার উচ্চ শিক্ষার আশার আলো নিভে যেতে শুরু করেছিল, তখনি আশার প্রদীপ হাতে নিয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্বপ্নযাত্রা। মেধাবী ছাত্রী নাইমার আত্মবিশ্বাসের ভিত শক্ত করার পেছনে যেমন তার অধ্যবসায়, কষ্টসহিষ্ণু পিতার শ্রম রয়েছে, তেমনি রয়েছে একজন নীরব সহায়কের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা, স্বপ্নযাত্রা’র প্রধান উদ্যোক্তা জনাব আরিফ সিকদার। তিনি নাইমার স্কুলের সকল খরচ বহন করে তাকে মানসিক শক্তি জুগিয়ে আসছেন একজন পরম অভিভাবকের মতো।

নাইমা এখন তার বাবা-মায়ের একমাত্র আশা, শিক্ষকের সফল ছাত্রীর অন্যতম উদাহরণ। আমরা নাইমার সফল কর্মময় জীবন দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। তার জন্য আমাদের সকলের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা।

Related Posts

স্বপ্ন পূরণের এক ধাপ পার করলো স্বপ্নযাত্রার স্বপ্নসঙ্গীরা

আজ আমাদের অনেক আনন্দের দিন। আমাদের স্বপ্নযাত্রার ৫ জন শিক্ষার্থী এবারের এস এস সি পরীক্ষায়Read More

স্বপ্নযাত্রার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ উপহার

এবারের ঈদটা অন্যান্যবারের ঈদের থেকে কিছুটা আলাদা। মহামারি করোনা ভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর কারণেRead More

“স্বপ্নযাত্রা” – স্বপ্ন পূরণের গল্প

২০১৫ সাল। উন্নয়নকর্মী মহুয়া আপা একদিন ফোন করে বললেন, একটা ছেলে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছে;Read More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *